আমরা সিক্স-প্যাক অ্যাবস বা বাইসেপ বানানোর জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা জিমে ঘাম ঝরাই। কিন্তু যে সুপার-কম্পিউটারটি আমাদের পুরো জীবন নিয়ন্ত্রণ করছে, সেই মস্তিষ্কটি কি ধীরে ধীরে অকেজো হয়ে যাচ্ছে? বিজ্ঞান বলছে, শরীরের মতো মস্তিষ্কেরও 'মাসল' আছে এবং ব্যবহার না করলে তা দুর্বল হয়ে পড়ে।
একসময় ধারণা করা হতো, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর মস্তিষ্কের বিকাশ থেমে যায়। কিন্তু আধুনিক নিউরোসায়েন্স এই ধারণা ভেঙে দিয়েছে। একে বলা হয় 'নিউরোপ্লাস্টিসিটি' (Neuroplasticity)।
মস্তিষ্ক নমনীয় এবং এটি নিজেকে পুনর্গঠন করতে পারে।
আপনি যখনই নতুন কিছু শেখেন বা নতুন কোনো চ্যালেঞ্জ নেন, মস্তিষ্কে নতুন নিউরাল পাথওয়ে (Neural Pathway) তৈরি হয়।
আমরা আয়নায় পেশী দেখতে পাই, কিন্তু নিউরন দেখতে পাই না। তাই এর ক্ষয় আমাদের চোখে পড়ে না।
মস্তিষ্ক অলসতা পছন্দ করে। পরিচিত কাজ বারবার করতে সে শক্তি খরচ কম করে। আমরা যখন একই রুটিনে চলি, মস্তিষ্ক 'অটোপাইলট' মোডে চলে যায় এবং এর গ্রোথ থেমে যায়।
সোশ্যাল মিডিয়ার অতিরিক্ত ব্যবহার এবং শর্ট-ফর্ম কন্টেন্ট আমাদের ফোকাস করার ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে, যা মস্তিষ্কের জন্য ফাস্ট ফুডের মতো ক্ষতিকর।
সুডোকু বা ক্রসওয়ার্ড পাজল খেলা ভালো, কিন্তু যথেষ্ট নয়। মস্তিষ্ককে সচল রাখতে হলে তাকে 'চ্যালেঞ্জ' দিতে হবে।
নতুন ভাষা শেখা মস্তিষ্কের জন্য 'হেভি ওয়েটলিফটিং'-এর মতো। এটি মস্তিষ্কের গ্রে-ম্যাটার (Grey Matter) বৃদ্ধি করে।
মাঝে মাঝে বাম হাতে (ডানহাতি হলে) দাঁত মাজা বা মাউস ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। এই ছোট পরিবর্তন মস্তিষ্কের নিষ্ক্রিয় অংশকে সজাগ করে তোলে।
বাজারের ফর্দ বা ফোন নম্বর না লিখে মনে রাখার চেষ্টা করুন। এটি হিপোক্যাম্পাসকে (স্মৃতির কেন্দ্র) শক্তিশালী করে।
মজার ব্যাপার হলো, মস্তিষ্কের সেরা ব্যায়ামগুলোর একটি হলো অ্যারোবিক এক্সারসাইজ। দৌড়ানোর সময় মস্তিষ্কে BDNF (Brain-Derived Neurotrophic Factor) নামক প্রোটিন নিঃসরণ হয়, যা নতুন নিউরন জন্মাতে সাহায্য করে।
বয়স বাড়ার সাথে সাথে আলঝেইমার্স বা ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়ে। নিয়মিত মস্তিষ্কের চর্চা এই অবক্ষয় রুখে দিতে পারে। একজন শক্তিশালী বডি বিল্ডারের চেয়ে একজন তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তার মানুষের টিকে থাকার ক্ষমতা (Survival instinct) অনেক বেশি।
শরীরচর্চা আপনাকে শক্তিশালী করে, কিন্তু মস্তিষ্কের চর্চা আপনাকে অপ্রতিরোধ্য করে। শরীরকে সুস্থ রাখার পাশাপাশি মস্তিষ্ককেও চ্যালেঞ্জের মধ্যে রাখুন। কমফোর্ট জোন থেকে বেরিয়ে আসাই হলো মস্তিষ্কের আসল জিম।
