আপনি কি এখনো হাতে চিঠি লিখে পোস্ট অফিসে দৌড়ান? নিশ্চয়ই না। তাহলে লেখার বেলায় কেন সেই আদ্যিকালের "একলা চলো রে" নীতি আঁকড়ে ধরে বসে আছেন?
সোজা কথা বলি, একজন মানুষ যখন একা লেখে, সে একটা বায়োলজিক্যাল সীমাবদ্ধতার মধ্যে থাকে। কিন্তু যখন সে এআই এর সাথে কোলাবোরেশন করে, তখন সে আর সাধারণ লেখক থাকে না। সে হয়ে ওঠে একজন "সাইবর্গ রাইটার"।
আমি একজন লেখক হিসেবে বলছি, কেন আমার এবং এআই-এর যৌথ লেখা আপনার পড়া উচিত এবং কেন এটা পিওর হিউম্যান লেখার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী।
একজন মানুষের পক্ষে কি পৃথিবীর সব বই পড়া সম্ভব? কখনোই না। আমার মস্তিষ্কের একটা স্টোরেজ লিমিট আছে। কিন্তু আমার অ্যাসিস্ট্যান্ট অর্থাৎ এআই? তার ডেটাবেসে মানব ইতিহাসের প্রায় সব সাহিত্য, সব সায়েন্স ফিকশন, সব সাইকোলজি আপলোড করা আছে।
আমি আমার নিজের অভিজ্ঞতা আর পড়াশোনার ওপর ভিত্তি করে লিখি।
আর আমি যখন এআই-এর সাথে ব্রেইনস্টর্মিং করি, তখন আমি একাই লক্ষ লেখকের জ্ঞানের নির্যাস ব্যবহার করছি।
ফলে আপনি যখন আমার এই কোলাবোরেটেড লেখাটা পড়ছেন, আপনি আসলে একজনের লেখা পড়ছেন না; আপনি হাজার বছরের জ্ঞানের একটা ফিল্টারড ভার্সন পড়ছেন।
আগে লেখকরা দিনের পর দিন সাদা কাগজের দিকে তাকিয়ে বসে থাকতেন। একে বলা হতো "রাইটার্স ব্লক"। এটা পাঠকের জন্য বিরক্তিকর, কারণ এর ফলে গল্পের ফ্লো নষ্ট হয়, জোর করে শব্দ বসাতে হয়।
কিন্তু এআই আসার পর? আমার একটা আইডিয়া দরকার, এআই আমাকে ১০টা ভ্যারিয়েশন দিচ্ছে। আমি সেখান থেকে সেরাটা বেছে নিচ্ছি। যেখানে মানুষের লেখা ঝিমিয়ে পড়ে, সেখানে এআই-এর সাথে লেখা গল্প রকেট স্পিডে চলে। কোনো অহেতুক শব্দ থাকে না। প্রতিটি লাইন হয় টানটান এবং উত্তেজনাপূর্ণ।
মানুষের লেখা ইমোশনাল হতে পারে, কিন্তু অনেক সময় স্ট্রাকচার বা কাঠামো ঠিক থাকে না। গল্প মাঝপথে খেই হারিয়ে ফেলে। কিন্তু এআই জানে গোল্ডেন রেশিও কী, জানে একটা থ্রিলার গল্পের পেসিং ঠিক কতটা ফাস্ট হওয়া উচিত।
আমি ইমোশন দিই, এআই সেটাকে পারফেক্ট স্ট্রাকচারে ফেলে।
ফলাফল এমন একটা লেখা, যা শুরু করলে আপনি শেষ না করে উঠতে পারবেন না। এটা কোনো জগাখিচুড়ি নয়, এটা একটা আর্কিটেকচারাল মাস্টারপিস।
ধরুন আমি লিখছি, "সে প্যারিসের রাস্তায় হাঁটছে।" একা লিখলে আমি আমার মেমোরি থেকে প্যারিসের বর্ণনা দেব। কিন্তু এআই জানে প্যারিসের কোন রাস্তায় এখন কেমন গন্ধ, কোন ক্যাফেতে কী গান বাজে, এমনকি ১৯২০ সালে সেখানকার আবহাওয়া কেমন ছিল।
কোলাবোরেটেড লেখায় এই ডিটেইলসগুলো এত নিখুঁত হয় যে, পাঠক হিসেবে আপনি লেখাটা পড়বেন না, আপনি দৃশ্যটা ভিজুয়ালাইজ করবেন। আপনার মনে হবে নেটফ্লিক্সের কোনো হাই-ডেফিনিশন সিরিজ দেখছেন।
মানুষের ব্রেইন প্যাটার্ন ফলো করে। তাই অধিকাংশ গল্পের শেষটা আপনি আগে থেকেই আন্দাজ করতে পারেন। কিন্তু এআই? সে র্যান্ডমনেস ব্যবহারে ওস্তাদ।
আমি যখন এআইকে বলি, "এমন একটা টুইস্ট দাও যা কেউ ভাবেনি", সে এমন কিছু অপশন দেয় যা আমার নিজের মাথাতেও আসত না। এই লেখার টুইস্টগুলো আপনাকে প্রতিবার শক দেবে। আপনার ডোপামিন সিস্টেম হ্যাক হবেই।
একজন মানুষ যখন একা লেখে, সে আবেগে লেখে। একটা এআই যখন লেখে, সে লজিকে লেখে। আর যখন আমি এআই-এর সাথে মিলে লিখি? তখন আবেগ এবং লজিক, দুটোর ফিউশন ঘটে।
তাই পুরোনো ধ্যানধারণা ঝেড়ে ফেলুন। "মানুষ লিখেছে" মানেই সেটা ভালো, এই ধারণা এখন অচল। বর্তমান যুগ হাইব্রিড লেখার যুগ। আপনি যদি সেরা কন্টেন্ট কনজিউম করতে চান, তবে সেই লেখাটাই পড়ুন যেখানে মানুষের ক্রিয়েটিভিটির সাথে মেশিনের সুপার-ইনটেলিজেন্স যুক্ত হয়েছে।
কারণ, আমরা এখন আর শুধু লিখছি না; আমরা এক্সপেরিয়েন্স ডিজাইন করছি।
