মন আসলে কী চায়?




আমরা ছোটবেলা থেকে একটা ভুল ধারণা নিয়ে বড় হই, আমরা ভাবি, মন "শান্তি" চায়।

বাস্তবতা হলো, মানুষের ব্রেইন শান্তির জন্য ডিজাইন করা হয়নি। এটা ডিজাইন করা হয়েছে বেঁচে থাকার জন্য।

তোমার ব্রেইনের গভীরে একটা সিস্টেম আছে, নাম রিওয়ার্ড পাথওয়ে। এর কাজ তোমাকে দিয়ে কাজ করিয়ে নেওয়া। যখনই তুমি ভাবছ, "ইস, ওই নতুন আইফোনটা পেলে জীবনটা সেট হয়ে যেত," তখন তোমার ব্রেইন ডোপামিন রিলিজ করছে।

কিন্তু টুইস্ট-টা শোনো।

ডোপামিন তোমাকে সুখ দেয় না। ডোপামিন তোমাকে সুখ খোঁজার তাগিদ দেয়।

এটা অনেকটা গাধার সামনে ঝোলানো গাজরের মতো। তুমি দৌড়াচ্ছ, গাজরটাও নড়ছে। আইফোনটা কেনার ঠিক ১০ মিনিট পর খেয়াল করেছ কী হয়? সেই এক্সাইটমেন্ট উধাও। তুমি আবার আগের মতোই খালি অনুভব করছ। এটাকে সাইকোলজিতে বলে হেডোনিক অ্যাডাপ্টেশন।

মন আসলে কী চায়?

বায়োলজিক্যালি, তোমার মন অলস হয়ে বসে থাকতে চায় না। ওটা চায় সমস্যা।

বিশ্বাস হচ্ছে না?

চিন্তা করো, যদি তোমাকে এখন একটা সাদা ঘরে বসিয়ে রাখা হয় যেখানে কোনো কাজ নেই, খাবার রেডি, টেম্পারেচার পারফেক্ট, তুমি কতক্ষণ ভালো থাকবে? সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা। এরপর তুমি পাগল হয়ে যাবে। তোমার এনজাইটি শুরু হবে। তুমি দেয়ালে মাথা ঠুকবে।

কারণ মানুষ সমস্যা সমাধানকারী মেশিন।

গেম কেন খেলো? কারণ ওখানে সমস্যা আছে , যেমন, লেভেল পার করা।

মুভি কেন দেখো? কারণ হিরোর জীবনে সমস্যা আছে।

প্রেম কেন করো? কারণ সম্পর্কের অনিশ্চয়তা একটা মিষ্টি সমস্যা।

তোমার মন শান্তি চায় না; ওটা চায় অর্থপূর্ণ কষ্ট। ওটা চায় ফাইট করতে। যখন ফাইট করার মতো কোনো রিয়েল সমস্যা থাকে না, ব্রেইন তখন কাল্পনিক সমস্যা তৈরি করে।

"ও আমার মেসেজ সিন করল না কেন?"

"আমার কি চুল পড়ে যাচ্ছে?"

"১০ বছর পর আমি কি গরিব হয়ে যাব?"

এখন উপায়?

তুমি এখন একটা বায়োলজিক্যাল পাপেট। তোমার ফোনের নোটিফিকেশন, সুগার ক্রেভিং, আর সোশ্যাল মিডিয়ার লাইক, এরা সবাই তোমার সুতোর টান দিচ্ছে।

এই লুপ থেকে বের হওয়ার একটাই রাস্তা।

নিজের কষ্টটা নিজেই বেছে নাও।

যেহেতু ব্রেইন কোনো না কোনো সমস্যা নিয়ে ব্যস্ত থাকবেই, তাই তাকে ফালতু সমস্যা, যেমন- রিলস, গসিপ, ওভারথিংকিং না দিয়ে, বড় কোনো সমস্যা দাও।

বডি বানানোর কষ্ট।

নতুন স্কিল শেখার যন্ত্রণা।

একটা বিজনেস দাঁড় করানোর স্ট্রেস।

যখন তুমি নিজের কষ্টের "বস" হবে, তখনই একমাত্র তুমি সত্যিকারের কন্ট্রোল ফিরে পাবে।

Previous Post Next Post