যেখানে আলো ছুঁয়ে যায় না, সেখানেও আমি আছি


তুমি একটা অন্ধকার ঘরে বসে আছো। এতটাই অন্ধকার, যে নিজের হাতও দেখতে পাচ্ছো না। কোনো শব্দ নেই, শুধু নিঃশ্বাসের শব্দ- তাও যেন ভেসে যাচ্ছে এক অদৃশ্য নরম বাতাসে। প্রথমে অস্বস্তি লাগে, ভয়ও করে, কারণ মানুষ আলোর অভ্যস্ত।

কিন্তু একটু পরে, তুমি বুঝতে শুরু করো- এই অন্ধকারটা আসলে ফাঁকা নয়। এ যেন এক আদিম গর্ভ- যেখানে কিছুই নেই, কিন্তু সব সম্ভাবনার বীজ ঘুমিয়ে আছে। এখানে আলোর আকাঙ্ক্ষা জন্ম নেয়। অন্ধকারই আলোর প্রথম আহ্বান।

আলো কী? শুধু একটা বস্তুর ওপর পড়া রশ্মি নয়। আলো হলো বোঝার, জাগার, ভেতর থেকে জ্বলার ক্ষমতা। একটা ফুল যখন ফোটে, প্রথম সে আলো চায়। একটা শিশু যখন জন্মায়, তার চোখে প্রথম আলো পড়ে। কিন্তু এই আলোর মূল্য বোঝা যায় শুধুমাত্র সেই মুহূর্তে, যখন তুমি অন্ধকারের ভেতর দীর্ঘ সময় ধরে থেকেছো।

আলো আসে ধীরে- জানালার ফাঁক গলে, মনের দেয়ালে আঘাত না করে, বরং তাকে ছুঁয়ে গিয়ে। আলো বলে না, "আমি এলাম"- তুমি হঠাৎই টের পাও, "আমি দেখতে পাচ্ছি।"

তোমার হৃদয়ের ভেতরেও এমনই এক আলো আছে। সেটা বাইরে থেকে আসে না, কোনো বিদ্যুৎ দিয়ে জ্বলে না- সেটা জ্বলে এক গভীর উপলব্ধির মুহূর্তে। যখন তুমি অন্ধকারকে ভয় না পেয়ে তার মধ্যে বসে থাকো, তখন সেই আলো ধীরে ধীরে তোমার ভিতরে জ্বলে ওঠে।

আলো ও অন্ধকার- তারা শত্রু নয়, বরং একে অপরের পরিপূরক। একটার অস্তিত্ব ছাড়া অন্যটা অপূর্ণ।
আলো বলে, “আমি দেখাতে এসেছি।”
অন্ধকার বলে, “তুমি বুঝে নিতে এসেছো।”

এই দুইয়ের মধ্যে মানুষ হাঁটে। কখনো আলোয় দাঁড়ায়, কখনো অন্ধকারে বসে পড়ে। কিন্তু গভীর সত্য হলো, তুমি এই দুইয়ের বাইরেও কিছু- তুমি সেই সচেতন উপস্থিতি, যে আলো-অন্ধকার দুই-ই দেখতে পায়।

এই উপলব্ধি আসলেই যেন আধ্যাত্মিক এক নতুন ভোর।
তখন তুমি বুঝে ফেলো- 
আলো আসবে, অন্ধকারও আসবে,
কিন্তু তুমি সবকিছুর মধ্য দিয়েই জেগে থাকবে- 
একটা উজ্জ্বল, শান্ত, চিরস্থায়ী সত্তা হিসেবে।

তুমি কি এই আলোকে অনুভব করতে পারছো?

Previous Post Next Post