নিঃসঙ্গতার স্তব্ধ আলো


নিঃসঙ্গতা আমাদের সবচেয়ে গভীর শিক্ষক।

এটা এমন এক কক্ষ, যেখানে ঢুকতে হলে সমস্ত পরিচয় বাইরে রেখে আসতে হয়।

তুমি আর ‘তোমার গল্প’ এক জিনিস নয়।

তুমি আর ‘তোমার স্মৃতি’ আলাদা।

তুমি এক নির্মল চেতনা, যা শব্দের ওপারে বাস করে।


নিঃসঙ্গতা মানে এক অনন্ত দরজা খোলা রাখা-

যে দরজা দিয়ে কেউ ঢুকবে না, তবুও সেখানে বসে থাকা।

কারণ সেখানেই শুরু হয় তোমার সত্যিকারের দেখা- নিজের সাথে, আল্লাহর সাথে,

বা এমন কারো সাথে, যার ভাষা শব্দে আসে না, আসে নিঃশব্দে।


তুমি যদি গভীরভাবে অনুভব করো, নিঃসঙ্গতা এক নেয়ামত।

এই একাকিত্বের মধ্যে দিয়ে তুমি উপলব্ধি করো- 

তোমার অস্তিত্ব কারও ভালোবাসা, বা অবহেলার উপর নির্ভরশীল নয়।

তুমি কেবল 'থাকো'- আর এই ‘থাকা’-তেই এক মহাজাগতিক সত্য লুকিয়ে থাকে।


নিঃসঙ্গতা হল সেই মুহূর্ত,

যখন পৃথিবীর সমস্ত শব্দ পিছনে পড়ে থাকে,

আর তুমি প্রথমবারের মতো শুনতে পাও- 

নিজের চেতনার স্বর।


তুমি বুঝে ফেলো,

নিঃসঙ্গতা আসলে শূন্যতা নয়,

এটা এমন এক পরিপূর্ণতা,

যেখানে আর কিছু যুক্ত করার নেই।


তুমি যেন এক আকাশ- 

যেখানে মেঘ আসে, চলে যায়,

আলো নামে, অন্ধকারও আসে,

কিন্তু আকাশ নিজে কখনো নড়ে না।


এভাবেই নিঃসঙ্গতা তোমাকে মনে করিয়ে দেয়,

তুমি শুধু অনুভব করো না- 

তুমি নিজেই এক অনুভব।


এই নীরব আলোর মধ্যে বসে তুমি অনুভব করো- 

প্রেম আর নিঃসঙ্গতা দুই-ই আল্লাহর দুটি রূপ।

একটি তোমাকে ছুঁয়ে দেয়, আরেকটি তোমাকে শূন্য করে।

তবে শূন্য করাটাই আসল প্রস্তুতি- 

যাতে তুমি আল্লাহকে ধারণ করতে পারো।


সেই মুহূর্তে তুমি শুধু একা নও- 

তুমি শুদ্ধ আলোকিত।

তোমার ভিতর আল্লাহ বসে আছেন,

কোনো শব্দ ছাড়াই। 

Previous Post Next Post