চা খেতে খেতে অনেক ডিপে চলে গেছিলাম


আজকে যখন আমি চা খাচ্ছিলাম, চা খেতে খেতে অনেক ডিপে চলে গেছিলাম।

এই যে এক কাপ চা আমার সামনে চলে আসলো, তালহা ভাই দিয়ে গেলো। এটা একটা লম্বা ব্যাপার।
শুরুতে এটা একটা বীজ ছিল। সেই বীজটা কেউ মাটিতে লাগালো। অবশ্য তার আগে মাটি সিলেক্ট করতে হয়েছে, কোন মাটিতে এটা ভালোভাবে বেড়ে উঠবে। তারপর সেটাকে যত্ন করা হয়েছে- রোদে, বৃষ্টিতে, বছর ধরে।
তারপর দক্ষ মানুষকে রিক্রুটমেন্ট করা হয়েছে। তাদেরকে অল্প বেতন দিয়ে সেই চারাগুলোর যত্ন নেওয়া হয়েছে। কোনো মেশিন না, কোনো রোবটও না। একটা জলজ্যান্ত মানুষ হাত দিয়ে এটাকে এক বছর নার্চার করেছে।
তারপর যে বেস্ট পাতাটা, সেটা সে চোখে দেখে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সেখান থেকে তার ডগা থেকে দুইটা পাতা সে তার ঝুড়ির মধ্যে ফেলল।
তারপর সেই পাতা শুকানো হয়েছে, আরও অনেক প্রসেসিং করা হয়েছে, পাতার স্বাদটা যাতে ভালো হয়। তারপর এটাকে প্যাকেট করা হয়েছে, তারপর সেটা বাজারে গেছে।
তারপর, সেটা কেনা হইছে।
তারপর সেই চা-টা আমাদের অফিসে আসলো, চা পাতাটা আর কি। তারপর সেই চা-পাতা দিয়ে তালহা ভাই চা-টা বানাইছে। (এখন আমি বলতে গেলাম না ওয়াটার হিটারটা কে বানাইছে অথবা বিদ্যুৎ কই থেকে আসছে ইত্যাদি, সেসব বলতে গেলে আরো লম্বা প্রসেস)।
তো, ফাইনালি এই চা-টা এখন আমার পেটের মধ্যে চলে গেলো। ফাইনালি, একটা বীজ তার এক বছরের একটা জার্নি শেষ করলো, আমি এটা পান করার মাধ্যমে।
একসময়ের ছোট্ট নাসিফ এখন বড় হয়ে গেলো এবং একসময় একদিন সে মারা যাবে। তারপর তার জার্নি শেষ হবে। এভাবেই, প্রত্যেকটা জিনিস।
তাই আপনি যখন এক কাপ চা খাচ্ছেন, এটার পেছনে অনেক ইমোশনাল একটা স্টোরি আছে। কিন্তু এত কিছু না ভেবেই আমরা শুধু চা খাই। কিন্তু এটা যে কতটা পথ অতিক্রম করে আপনার কাছে আসছে! টংয়ের দোকানে মাত্র ৫ টাকা দিয়েই এক কাপ চা পাওয়া যায়।
বাট এত লম্বা প্রসেসের মধ্যে আপনাকে কিছুই করতে হয়নি। এঞ্জয় ইওর টি। নেক্সট টাইম চা খাওয়ার সময় আপনার এসব কথা মনে পড়বে।
Previous Post Next Post