যদি কোনো পাঠক না থাকে, তাহলে লেখকের লিখে কোনো লাভ আছে?


একজন একটা ফিলোসফিকাল প্রশ্ন জিজ্ঞেস করলোঃ "যদি কোনো পাঠক না থাকে, তাহলে লেখকের লিখে কোনো লাভ আছে?"
প্রশ্নটা অনেক স্বাভাবিক। কারণ কাউকে পড়তে দেখা খুবই রেয়ার আজকের বিশ্বে। সবাই ছবি দেখতে পছন্দ করে, ভিডিও দেখলেও সেটা শর্ট ভিডিও যেন হয়।
আমরা খুব তাড়াতাড়ি সবকিছু চাই এখন। গাড়ি কিনলে ফাস্ট কার, ইন্টারনেট নিলে ফাস্ট ইন্টারনেট, অর্ডার করা খাবার আসতে লেট হলে বিরক্ত হয়ে যাই। এতোকিছুর মাঝে কেউ কিছু একটা সময় নিয়ে পড়বে এটা কল্পনা করা অস্বাভাবিক।
তবুও আমি অনেক বড় বড় লেখা লিখি যেটা পড়তে ২০ মিনিটের বেশি সময় ব্যয় হয়। কিন্তু সেসব লেখার সময় আমি মাথায় এটা কাজ করেনা যে বেশি বড় লেখা কেউ পড়বেনা।
আসলে শুধু কাউকে পড়তে দেয়ার জন্যে সবাই লেখেনা। আমি লিখি নিজের জন্যে। ধরেন একটা ফাঁকা রুমে আপনি একাই গান গাচ্ছেন। আপনি তখন এটা ভাবেন না যে কাউকে এই গান শুনতে হবে। এটা এক প্রকার মেন্টাল রিলিজ। লেখালেখি টাও এমন।
এর মধ্যেও যদি একজন লেখা পড়ে ফেলেন, তাহলে তো ভালোই। অনেকে কমেন্ট করেন "পুরোটা পড়লাম"। এটা এক প্রকারের এচিভমেন্ট। আমার জন্যে তো বটেই, রিডারের জন্যেও। কারণ বর্তমানে এতো এতো ক্ষুদ্র সময়ে আনন্দ পাবার মিডিয়াম বাদ রেখে একটা লেখা পড়তে পারা সত্যিই একটা এচিভমেন্ট।
ফেসবুক আসলে লেখালেখি পড়ার জায়গা না। আপনি এই পোস্ট টা পড়ছেন কারণ ফেসবুকে ঢুকতেই আপনি এই পোস্ট টা পেয়েছেন। তখন আপনার মাইন্ড টা ক্লিন ছিল। তাই আপনি সিদ্ধান্ত নিলেন "দেখি একটু পড়ে দেখি নাসিফ কী লিখসে"।
কিন্তু যারা প্রিভিয়াস পোস্টে কোনো মিমস অথবা শর্ট বিনোদন দেখার পর স্ক্রল করে এই পোস্ট এসেছে, তারা এই পোস্ট টা স্কিপ করে গেছেন। তাদেরকে মিস করছি যদিও। বাট ইটস ওকে। আমি তো বললাম ই আমার লেখার কারণ কী।

আমার কীবোর্ড টা অনেক সুন্দর। টাইপ করার সময় অনেক সুন্দর আওয়াজ আসে। তবে এর থেকেও ভালো একটা কীবোর্ড আছে। যেটা ইউসুফ স্যার কিনেছেন। ওইটা আমার লাগবে। 

Previous Post Next Post