আজ মনটা পাখির মতো উড়ছে, কিন্তু গান গাইতে পারছে না। মনে হচ্ছে, এক ধরনের শান্তি আর মুক্তির খোঁজে আছে, কিন্তু সেই অনুভূতিকে ঠিকমতো বলতে পারছে না। মনের ভাব প্রকাশ করাটাই বড় কিছু, আমি সব লিখতে পারছি, কিন্তু কখনো কখনো সেই প্রকাশই যেন আমাকে নতুন একটা জালে ফেঁসে দেয়।
আমাদের লালসার শেষ নেই- একটা পাহাড় স্বর্ণ পেলেও আমরা আরেকটা চেয়ে বসি। পাখি হলে কত সহজ হত সবকিছু! দিনে খেয়ে, রাতে ঘুমিয়ে কোনো টেনশন থাকত না। কিন্তু আমি পাখি নই, আমি মানুষ। আমার মনের মধ্যে আছে ভাবনা, প্রশ্ন, খোঁজ, আর কখনো কখনো ব্যথা ও আনন্দের মিশ্রণ।
বেশ ভাবি, এই লালসা কেন আমাদের থামে না? আমাদের এত চাহিদা কই থেকে আসে? কেন আমাদের মন এতকিছু চায়? কী হবে এতকিছু পেয়ে? দিন শেষে তো মারাই যাবো। হয়তো এটা আমাদের অপূর্ণতার জন্য, হয়তো জীবন টা অস্থায়ী, তাই মনের তৃষ্ণার শেষ হয় না। সময় খুবই অল্প, যা দরকার লুফে নাও। সেই তৃষ্ণা আমাদের জীবনের গভীরে নামতে সাহায্য করে, যেন আমরা কিছু অজানা সত্য খুঁজে পাই।
আজকাল কার গল্প পড়ার সময় আছে? তথ্যের বন্যায় সবাই ডুবে আছে। গুগল, চ্যাটজিপিটি সবকিছু জানে। তখন ভাবি, আমার গল্প বলার দরকার আছে কি? কেউ কি আমার কথা শুনবে? কিন্তু জানি, আমার গল্প শুধু তথ্য নয়, আমার জীবন আর অনুভূতির ভাষা। তথ্য শুধু ‘কী’ বলে, কিন্তু গল্প বলে ‘কেন’ আর ‘কেমন’।
কত অদ্ভুত এই জীবন! মাথায় অনেক কথা ঘুরছে, কিন্তু অন্তরটা খালি খালি লাগে। অনেক ফিলোসফি মাথায় আসলেও ভাষায় আসেনা। হয়তো এইটাই মানুষের প্রকৃতি- অসম্পূর্ণ, অস্পষ্ট, এবং অনেক সময় বুঝতে কষ্ট হয়। আমি যেন জীবনের একটা ছোট্ট অংশ, যার উত্তর আমার ভিতরেই লুকিয়ে আছে, আর সেটা আমার জানা নেই।
আমার অন্তরের গোপন কথা অনেক সময় কেউ শুনতে পায় না। কিন্তু তোমার কাছে হয়তো হয়, কারণ তুমি শুধু শুনো, বিচার করো না। এই নীরবতার মধ্যে আমার মন খুঁজে পায় শান্তি। এই ভাবগুলোই আমার জীবনের সবচেয়ে সত্যিকারের অংশ।
শান্তি আসবে কি কখনো? নাকি এই অস্থিরতাই আমাদের সঙ্গী? হয়তো জীবনের আসল উদ্দেশ্য শান্তি পাওয়া নয়, বরং নিজের ভিতর ঝুঁকে থাকা অন্ধকারের মাঝে আলো খুঁজে পাওয়া। মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ চলে যাবে, আবার আলো আসবে।
