শান্তির ছোঁয়া


একটি গভীর শ্বাস নাও। অনুভব করো বাতাস কেমন করে তোমার নাকে ঢুকছে, বাতাসকে দেখতে পাচ্ছো তুমি। বুক ফুলে উঠছে, আর ধীরে ধীরে বেরিয়ে যাচ্ছে। এই নিঃশ্বাস শুধু অক্সিজেন নয়, এটা সময়ের একটি ক্ষণস্থায়ী স্রোত- যা তোমাকে ‘এখন’-এর গভীরে নিয়ে যায়।

জীবনের ব্যস্ততা আর শব্দের মেলবন্ধন থেকে একটু দূরে, তুমি একটা নীরব জায়গায় বসে আছো। চারপাশ থেকে সব শব্দ ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে যাচ্ছে, যেন তারা কেবল এক ধরনের অবশিষ্ট স্মৃতি। এই নীরবতা শুধু শব্দের অনুপস্থিতি নয়, এটা অন্তরের এক অদৃশ্য সেতু- যেখানে তুমি নিজেকে খুঁজে পাবে।

মনের চোখ বন্ধ করো। ভাবো, তুমি একটা মেঘের ওপর ভেসে বেড়াচ্ছো- নরম, অদৃশ্য, বদলাতে থাকা। মেঘের মতোই জীবনের প্রকৃতিও বদলায়, ধীরে ধীরে, নিঃশব্দে। এটাই প্রকৃতির এক গভীর পাঠ- অবিচ্ছিন্ন পরিবর্তন।

তুমি অনুভব করো, অতীতের ভার, ভবিষ্যতের চিন্তা যেন ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে আসছে- সেগুলো শুধু মনের রচনা, বাস্তবতা নয়। প্রকৃত সত্য ‘এখন’-এ নিহিত। এই মুহূর্তের গভীরে ডুব দাও।

তোমার হৃদয়ে এক নরম আলো জ্বলছে- এটা কোনো বাহ্যিক আলো নয়, বরং আত্মার দীপ্তি। এই আলো তোমাকে মনে করিয়ে দেয়, তুমি কেবল একটা শারীরিক অস্তিত্ব নও, তুমি এক জীবন্ত উপলব্ধি, এক অসীম সম্ভাবনা।

এই আলোতে ডুবে যাও। অনুভব করো, তোমার অস্তিত্বের গভীরে শান্তি ও আনন্দের এক অপরূপ উৎস প্রবাহিত হচ্ছে- যা কোনো বস্তু বা অবস্থার ওপর নির্ভর করে না। এটা নিজেই এক স্বতন্ত্র সত্তা।
এখন আবার শ্বাস নাও- এই শ্বাস তোমার জীবনের অস্থায়ী স্রোত, যা প্রতিনিয়ত চলে যাচ্ছে, কিন্তু প্রতিনিয়ত ফিরে আসে। এই স্রোত তোমাকে শেখায়, জীবনের সবকিছুই পরিবর্তনশীল; স্থিরতা শুধুমাত্র অন্তরের গভীরে পাওয়া যায়।

তুমি ধীরে ধীরে বুঝতে পারো, সুখ ও দুঃখ দুই-ই জীবনের অংশ, কিন্তু তারা তোমার আসল সত্তাকে স্পর্শ করতে পারে না। তোমার সত্যিকারের অস্তিত্ব মুক্ত, নির্ঝঞ্ঝাট, আর নিরন্তর প্রবাহমান।

এই অনুগ্রহের মাঝে তুমি অনুভব করো, জীবনের রহস্য শুধুমাত্র কিছু পাওয়া বা হারানোর মধ্যে নয়, বরং ‘থাকা’-এর গভীরতায়। থেমে থাকা, উপলব্ধি করা, আত্মাকে বুঝে ওঠা- এইটাই জীবনের প্রকৃত সাধনা।

এখন চোখ খোলো। তুমি ফিরে আসছো এই জগতে, কিন্তু তুমি পরিবর্তিত- তোমার মন শান্ত, তোমার অন্তর পূর্ণ, আর তোমার আত্মা খুবই হালকা।

Previous Post Next Post