ঘড়ির কাঁটা ছুটে চলছে, তুমি তা দেখছো না।
তবুও সময় বয়ে যাচ্ছে- না শব্দ করে, না আলো ফেলে,
এক নীরব স্রোতের মতো বয়ে যাচ্ছে।
তুমি কখনো ভেবে দেখেছো কি, সময়কে আমরা দেখি না, শুধু তার ছায়া দেখি?
একটি ফুল ফোটে- আমরা বলি ‘এটা ফুটতে অনেক সময় লেগেছে’।
কিন্তু আসলে সময় তো ছিলই না, ছিল শুধু ধীরে ধীরে পরিবর্তনের ভিতরে ডুবে থাকা এক অদৃশ্য স্পন্দন।
সময়ের প্রকৃতি যেন একটা গভীর নদীর মত- তুমি তার উপর দাঁড়িয়ে আছো, অথচ সে তোমার ভেতর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে। তোমার শরীর নদী হয়ে যাচ্ছে। তুমি নদীর মাঝে মিশে যাও, নিজেকে আর খুঁজে পাচ্ছোনা। তুমিই হয়ে যাও নদী, তুমিই হয়ে যাও সময়।
তুমি যতই দৌড়াও, শেষ পর্যন্ত সময়ের মুখোমুখি হতে হয়।
তখনই তার সত্য রূপ ধরা দেয় তোমার মুখে।
তুমি এখন যে মুহূর্তে আছো, সেটি আর কোনোদিন ফিরে আসবে না।
এই শ্বাস, এই আলো, এই নীরবতা- এগুলো সবই একবারের জন্য।
তুমি কি অনুভব করছো?
না ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে, না অতীত নিয়ে পুড়ে- তুমি কি এই মুহূর্তের ভিতরে ঢুকতে পারছো?
কারণ এই মুহূর্তটা নিজেই এক অনন্ত দরজা।
তুমি যদি গভীরে যাও, দেখতে পাবে সময় কেবল ঘণ্টা বা ক্যালেন্ডারের হিসেব নয়-
এটা একটি প্রাণবন্ত সত্তা, যাকে ছোঁয়া যায় না, শুধু অনুভব করা যায়।
তুমি যদি খুব মনোযোগ দিয়ে শোনো, সময়েরও শব্দ আছে।
শিশুর হাসি, পাখির ডাক, বৃদ্ধের নিঃশ্বাস- সবই সময়ের ভাষা।
তুমি যদি গভীরভাবে ডুবে থাকো, সময় তোমার সাথে কথা বলবে।
আর যদি তুমি বলো, “সময় কোথায়?”
আমি বলবো, “তুমি যেখানেই আছো, সময়ও সেখানেই। তুমিই সময়।”
তোমার অনুভবের গভীরতা যত বাড়বে, সময়ের অনুভব ততই মূর্ত হবে।
এইরকম এক ধ্যানজাগ্রত উপস্থিতিতে তুমি বুঝবে-
সময় কোনো গন্তব্য নয়, এটা একটা চলমান অনন্ত ট্রেন।
এখানে কোনো ‘আগে’ বা ‘পরে’ নেই।
শুধু আছে- “এখন।”
আর এই ‘এখন’ যদি তুমি পুরোপুরি অনুভব করতে পারো,
তাহলে তোমার জীবনের গভীরতম সত্য ধরা দেবে-
তুমি হারাওনি, তুমি কখনোই দেরি করোনি, তুমি কেবল সময়ের মধ্যেই ছিলে, আছো, আর থাকবে।
