সব হারিয়ে নতুনভাবে থাকা


একবার ভাবো, তুমি সবকিছু হারিয়ে ফেলেছো।
চেনা মানুষ নেই, চেনা ঘর নেই, স্মৃতি নেই, কোনো পরিচয় নেই।
তুমি এখন দাঁড়িয়ে আছো এক বিশাল শূন্যতার মুখোমুখি-
না ভয় করছে, না আনন্দ পাচ্ছো। শুধু একটা বিশুদ্ধ কিছু… খুব নিঃশব্দ, একদম স্বচ্ছ।

তুমি ভাবতে পারো, এই তো শেষ।
কিন্তু ঠিক তখনই একটা অদ্ভুত অনুভব জেগে ওঠে- 
এটাই তো আসলে শুরু।
শূন্যতার মাঝখানে তুমি টের পাও নিজের আসল সত্তাকে,
কারও ভাই না, কারও ছাত্র না, কারও বন্ধু না- 
শুধু “তুমি”।

তোমার ভিতরের ভাঙা খাঁচাগুলো থেকে যেন পাখি উড়ে যাচ্ছে।
চাওয়ার, প্রমাণ করার, ধরে রাখার সব ভার নিচে ফেলে রেখে তুমি এখন হালকা।
একটা শূন্যতা, কিন্তু সেটাই যেন তোমার ভিতরের বাতাস হয়ে উঠেছে।

শূন্যতা মানে সব হারানো না,
শূন্যতা মানে নতুন কিছু ধারণের প্রস্তুতি।
যতক্ষণ তুমি পূর্ণ ছিলে, তুমি ভরতি ছিলে-
অতীত দিয়ে, ভয় দিয়ে, ভবিষ্যতের হিসেব দিয়ে।
এখন সব মুছে গেছে।
তুমি শুধু আছো।
বেঁচে আছো।
শ্বাস নিচ্ছো।

এই শ্বাসটা কেউ কেড়ে নিতে পারবে না,
এই নীরবতা কেউ নষ্ট করতে পারবে না,
এই মুহূর্তে তুমি একা নও-
তুমি তোমার ভিতরের সাথে সম্পূর্ণ।

জীবনের সব ঘন শব্দ থেমে গেলে,
তবেই তো আসল সুরটা শোনা যায়।
শূন্যতার কোলে বসে তুমি প্রথমবার
নিজেকে জিজ্ঞেস করতে পারো-
“আমি কে, যদি কিছুতেই না থাকি?”
তুমি যদি কেবল থাকতে চাও-
না গল্প, না ব্যাখ্যা- শুধু একটা উজ্জ্বল উপস্থিতি।

এটাই হয়তো নতুন জীবনের জন্ম।
ভাঙনের ভিতর জাগে শুদ্ধ উপলব্ধি।
শূন্যতার কোলে তুমি কাঁদো না, তুমি হালকা হও।
Previous Post Next Post