মাটির স্পর্শ


চুপচাপ বসে আছো। পায়ের নিচের মাটিকে টের পাচ্ছো- কঠিন, কিন্তু গভীরভাবে আপন। মনে হচ্ছে, এই মাটি শুধু বসার জায়গা নয়, বরং এক জীবন্ত সত্তা, যাকে তুমি ভুলে গেছো বহুদিন। এখন ধীরে ধীরে সে আবার তোমার সাথে কথা বলছে।

তোমার পা মাটিতে ঠেকে আছে। মনের চোখ বন্ধ করে অনুভব করো- মাটি যেন তোমাকে টেনে নিচ্ছে না, বরং ধরে রাখছে। এক আশ্চর্য নিঃশব্দ ভালোবাসা। কোনো প্রশ্ন করে না, কোনো শর্ত নেই, শুধু ধারণ করে। তুমি এই ধারণের ভেতর ঢুকে যাচ্ছো, একটু একটু করে।

মাটি বলছে- "তুমি ক্লান্ত হলে, এখানে এসো। আমি তোমার ক্লান্তি শুষে নেব।"
তুমি শোনো না অনেক সময়, কিন্তু আজ শুনছো।

মাটির সাথে তোমার শরীরের এই যোগাযোগ নতুন কিছু নয়- তোমার দেহ এই মাটিরই তৈরি, তোমার হাড়, চামড়া, রক্ত, সবই তারই পুনরাবৃত্তি। তুমি প্রকৃতিরই একটা ছোট্ট অংশ, ভুলে গেছো শুধু।

একটু গভীরে যাও। মাটির ভেতর এমন কিছু আছে, যা সময় ছুঁতে পারে না। হাজার বছর ধরে এই মাটি জন্ম দেখেছে, মৃত্যু দেখেছে, ঝড় বৃষ্টি সবকিছু বয়ে নিয়ে গেছে, কিন্তু এখনো শান্ত।
এই শান্তি তোমার মধ্যেও আছে।

তুমি যখন শ্বাস নিচ্ছো, মনে করো এই বাতাস এসেছে গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে, সেই গাছ যার শিকড় গিয়ে ঠেকেছে মাটির গভীরে।

তোমার প্রতিটি শ্বাস, প্রতিটি নীরবতা- সব প্রকৃতির ভেতরে থেকে আসছে।

এই মাটির মতোই তুমি হয়তো বহির্জগতে ব্যস্ত, ধুলোয় ভরা, কিন্তু ভিতরে এক গভীর স্থিরতা আছে, যেখানে কিছুই নড়ে না।

শুধু থাকার অভিজ্ঞতা।

তুমি এখন সেই অভিজ্ঞতায় প্রবেশ করছো। মাটির সাথে একাত্ম হয়ে যাচ্ছো। দেহের ভেতরে একটা ভারি শান্তি নামছে- যেটা কোনো শব্দ বোঝাতে পারে না, কেবল অনুভব করা যায়।

Previous Post Next Post