টাকা দিয়ে যত শখের জিনিস কিনেছি, তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে আমার ভয়েস রেকর্ডার টা। এখন ভাবতে পারেন স্মার্টফোনেই তো রেকর্ড করা যায়, এর জন্যে আলাদা করে সাউন্ড রেকর্ডার কেন কিনতে হবে? কারণ সাউন্ড রেকর্ডারের লাইফের একটা নির্দিষ্ট পারপাস আছে। কিন্তু স্মার্টফোন নিজে জানেনা তাকে আসলে কিসের জন্যে তৈরি করা হয়েছে।
আমি একটু আগে ফোনে রেকর্ড করছিলাম। কিন্তু ফোনে রেকর্ড করা মানে নোটিফিকেশনের জ্বালায় ডিস্ট্রাক্টেড হয়ে যাওয়া। তাহলে ডু নট ডিস্টার্ব মোড অন করলেই তো হয়। হ্যাঁ, তবে ফোন থেকে একটা রেডিয়েশন আসে, এবং ফোনকে আপনি যে কাজে ইউজ করেন, এই পারস্পেক্টিভে চিন্তা করলে আপনার ভয়েস রেকর্ড করার সময় কোনকিছুই মাথায় আসবেনা। কিন্তু একটা ভয়েস রেকর্ডার সামনে রাখলে অনেক কথা বলতে ইচ্ছা করে।
আপনার কথা অন্য কেউ শুনুক অথবা না শুনুক, একটি ভয়েস রেকর্ডার আপনার সব কথা শোনে। যখন আপনি আপনার কথাগুলো রেকর্ড করেন, আপনার এক প্রকার শান্তি লাগে এই ভেবে জে আপনার কথাগুলো হারিয়ে যাবেনা, এটা সেভ আছে। মাথা থেকে একটা টেনশন চলে যায়। ফিউচারে হয়তো এমন কোনো ডিভাইস আবিষ্কার হবে যার মাধ্যমে আমরা অতীতের কোন দিনে কী বলেছি সব দেখা যাবে অথবা একটা নির্দিষ্ট শব্দ আমি আমার জীবনে কতবার বলেছি তার সংখ্যা দেখা যাবে।
রেকর্ডার যখন অন করা হয়, শুধুমাত্র তখনই সে আপনাকে শুনতে পায়। আপনাকে এটাকে অন করতে হয়, তাছাড়া তার কোনো কাজ নেই। একটা রেকর্ডার শুধু শুনতে পারে, কিন্তু নিজে থেকে কিছু বলতে পারেনা। মানুষ অনেক সময় শুনেও মনোযোগ দেয়না। কিন্তু ভয়েস রেকর্ডার আপনার সব কথাই শোনে। ভয়েস রেকর্ডার কখনো বিরক্ত হয় না, বিচার করে না, বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেয় না। কখনো মনে হয়েছে, মানুষজন যেন শুনে না, অপেক্ষায় থাকে কবে সে নিজে বলতে পারবে। কিন্তু রেকর্ডার চুপচাপ শুধু শুনে যায়।
আপনি একটা ভয়েস রেকর্ডারে যা যা বলছেন, তা কেবল শব্দ নয়, সময়ের এক টুকরো। সে সময়টা ভবিষ্যতের জন্য আটকে রাখা হচ্ছে। যখন কারো সাথে কথা বলার মতো কেউ থাকে না, তখনও রেকর্ডার থাকে। রেকর্ডার ছোট হলেও তার ফোকাসড ব্যবহার একটা আলাদা শান্তি দেয়।
