এমনকি যখন সবকিছু কঠিন মনে হয় বা প্রার্থনার উত্তর আসছে না বলে মনে হয়, তখনো সর্বশক্তিমানের উপর বিশ্বাস রাখা এবং ধৈর্য্য ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
তিনিই সবকিছু পরিকল্পনা করেন এবং জানেন কোনটা আপনার জন্য সর্বোত্তম।
কঠিন সময়গুলো আসলে আল্লাহর পক্ষ থেকে উপহার এবং পরীক্ষা, যা আপনাকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।
ধৈর্য্য ধরে থাকলে তিনি আপনার মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন এবং প্রতিদান দেবেন।
তিনিই আপনার সব সমস্যার কথা জানেন, আপনার যত্ন নেবেন এবং পথ দেখাবেন।
যখন হতাশ বোধ করবেন, তখন তাঁর উপর ভরসা রাখুন।
তাঁর কাছে সাহায্য চান, এটি সবচেয়ে শক্তিশালী উপায়।
সবকিছু তাঁর হাতে সঁপে দিন।
মনে রাখবেন, আপনার প্রচেষ্টা নষ্ট হবে না এবং তিনি আপনাকে হতাশ করবেন না।
নিজের মন ও আত্মাকে পরিশুদ্ধ রাখুন।
অন্যের কথায় বা সমালোচনায় হতাশ হবেন না।
মানুষ সমালোচনা করবে, ভুল বিচার করবে- এটা স্বাভাবিক।
গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনার ভেতরের শান্তি, ভালো উদ্দেশ্য এবং পবিত্র হৃদয়।
মানুষ আপনাকে কীভাবে দেখছে তা আসল নয়, আসল হলো সর্বশক্তিমান কীভাবে আপনার হৃদয়কে বিচার করছেন।
হিংসা, বিদ্বেষ, ক্ষোভ, বদনাম বা গসিপ করা আপনার আত্মাকে বিষাক্ত করে তোলে।
এগুলো থেকে আপনার হৃদয়কে রক্ষা করুন।
অন্যের সাফল্য দেখে ঈর্ষান্বিত হওয়া বা তাদের নিয়ে খারাপ কথা বলা আপনার নিজেরই ক্ষতি করে।
নিজের মনকে ইতিবাচক চিন্তা দিয়ে ভরিয়ে তুলুন।
অন্যের বিষয় নিয়ে অযথা মাথা ঘামানো বন্ধ করে নিজের জীবনের দিকে মনোযোগ দিন।
অন্যের আচরণে নিজের প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করুন।
যখন কেউ আপনাকে অপমান করার চেষ্টা করে বা অন্যায়ভাবে আপনার সাথে আচরণ করে, তখন মনে রাখবেন আপনি তাদের কাজ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না, কিন্তু নিজের প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।
শান্ত থাকা বা নীরব থাকা মাঝে মাঝে সর্বোত্তম উপায়।
প্রতিশোধ বা বিদ্বেষ পুষে রাখবেন না। যারা আপনার বদনাম করে, তারা আসলে তাদের খারাপ কাজ আপনার কাছে দিয়ে দেয় এবং আপনার ভালো কাজ নিয়ে যায়।
তাই হতাশ না হয়ে নিজের কাজে মনোযোগ দিন।
ক্ষমা করুন এবং দয়াশীল হোন।
অন্যকে ক্ষমা করে দেওয়া নিজের হৃদয়ে জমে থাকা রাগ, ক্ষোভ এবং অভিযোগ দূর করে।
এটি আত্মার শুদ্ধি ঘটায় এবং শান্তি এনে দেয়।
আপনি যেমন সৃষ্টিকর্তার কাছে ক্ষমা চান, তেমনই অন্যদের ক্ষমা করতে শিখুন।
অন্যদের প্রতি দয়াশীল, বিনয়ী এবং সহানুভূতিশীল হোন।
যারা আপনার প্রতি খারাপ আচরণ করেছে, তাদের কাছ থেকেও শিখুন।
হতাশ না হয়ে ইতিবাচক থাকুন।
দুঃখ বা হতাশা জীবনের অংশ হতে পারে, কিন্তু এতে আটকে থাকবেন না।
বিশ্বাস করুন যে সবকিছুর পেছনে একটি কারণ আছে এবং সৃষ্টিকর্তা আপনার জন্য সর্বোত্তম ব্যবস্থা রেখেছেন।
কষ্টের প্রতিটি পরীক্ষাই আপনাকে আরও কাছে নিয়ে আসে তাঁর।
হতাশ না হয়ে নতুন করে শুরু করুন, যা আছে তার উপর মনোযোগ দিন এবং সামনে এগিয়ে যান।
হাসুন এবং কৃতজ্ঞ থাকুন।
মনে রাখবেন, জীবন সংক্ষিপ্ত; বিদ্বেষ পুষে রাখা উচিত নয়।
নিজের মূল্য বুঝুন।
দুনিয়ার মানুষ আপনাকে কীভাবে বিচার করছে বা দেখছে, সেটা আসল কথা নয়।
আপনি বিশেষ কারণ সৃষ্টিকর্তা আপনাকে তৈরি করেছেন।
অন্য কারো সাথে নিজের তুলনা করবেন না।
অন্যের সফলতা দেখে ঈর্ষান্বিত না হয়ে খুশি হতে শিখুন।
এটাই একটি বিশুদ্ধ হৃদয়ের লক্ষণ।
আপনার জীবনের সত্যিকারের সম্পদ আসে বিশ্বাস এবং সম্পর্কের গভীরতা থেকে, পার্থিব জিনিস থেকে নয়।
সৃষ্টিকর্তার সাথে সম্পর্ক বজায় রাখুন।
হৃদয়ে শান্তি তখনই আসে যখন সৃষ্টিকর্তার সাথে আপনার সম্পর্ক দৃঢ় থাকে।
তাঁর কাছে প্রার্থনা করুন, তাঁর প্রশংসা করুন, তাঁর ক্ষমা চান।
প্রার্থনা হৃদয়ের ব্যাধি নিরাময় করে।
