তুমি ঘুমোলে কোথায় যাও?


তুমি ঘুমোলে কোথায় যাও?


তোমার চারপাশ অদৃশ্য হয়ে যায়, পরিচয় হারিয়ে যায়, ভাষা, ভয়, বাসনা- সব স্তব্ধ। তবুও তুমি আছো।

ঘুম মানে যেন এক রহস্যময় দরজা, যেখানে তুমি হারিয়ে যাও, আবার ফিরে আসো।

তুমি এটা নিজে নিয়ন্ত্রণ করো না, তবুও প্রতিদিন বিশ্বাস রেখে সেখানে প্রবেশ করো- এটা কি আত্মসমর্পণের চূড়ান্ত রূপ নয়? 


যখন তুমি চোখ বন্ধ করে কোথাও বসে থাকো, তোমার অনেক সাফোকেট লাগে কারণ কেউ যদি এসে তোমার গালে একটা চড় বসিয়ে দেয়? কিন্তু ঘুমের সময় আমরা নিজেকে সঁপে দেই। 


ঘুম কোনো কাজ নয়।

ঘুম হচ্ছে “কাজ না করা”-র চূড়ান্ত রূপ।

এটাই হয়তো আমাদের সবচেয়ে গভীর “হতে পারা”-র অবস্থা।

যেখানে আমরা কিছুই করি না, কিন্তু তবুও কিছু ঘটে যায়।


তুমি কি জানো, ঘুমের সময় মস্তিষ্ক সবচেয়ে বেশি “নিজেকে গুছিয়ে নেয়”?

তুমি অচেতন, অথচ ভিতরে সমস্ত অনুভূতির পাণ্ডুলিপি রচনা হচ্ছে- 

যেন গভীর রাতে কেউ তোমার আত্মার ঘর ঝাঁট দিচ্ছে, শব্দ ছাড়াই।


এখন ভাবো, এই ঘুম যদি শুধু দৈহিক ক্লান্তি ঘোচানোর জন্য হতো,

তাহলে কেন ঘুমে এতটা গভীরতা, এতটা হারিয়ে যাওয়ার অনুভব?


এটা কি মৃত্যু নয়? মৃত্যুর ছোট্ট এক অনুশীলন?

আর তাই প্রতিটি জাগরণ নতুন জন্মের মতো।

তুমি ঘুম থেকে উঠে শুধু চা খেতে যাচ্ছো না- তুমি একটা নতুন “আমি” নিয়ে ফিরেছো।

তুমি একটু হালকা, একটু ফ্রেশ, একটু বদলে গেছো।


তুমি কি কখনো অনুভব করেছো, গভীর ঘুমে তুমি কেমনভাবে নিজেকে হারিয়ে ফেলো?

সেই হারিয়ে যাওয়া কি নিঃশ্বাসের চেয়েও বাস্তব নয়?


ঘুম আমাদের শেখায়- সবকিছু ছেড়ে দিয়েও টিকে থাকা যায়।

বিশ্রামের ভিতরেও জীবন বহমান থাকে।

কিছু না করেও নিজেকে নতুন করে পাওয়া যায়।


ঘুম হচ্ছে এক আধ্যাত্মিক ছায়া- 

যেখানে তুমি নিজের গহীনতম স্তরে পৌঁছাতে পারো, শব্দ ছাড়াই, চেষ্টা ছাড়াই।


তাই আজ যখন তুমি ঘুমোতে যাও,

তখন শুধু চোখ বন্ধ করো না- 

মনে করো, তুমি এক নতুন পৃথিবীতে প্রবেশ করছো,

যেখানে সময় নেই, দায়িত্ব নেই, ভাষা নেই- 

শুধু তুমি আছো, তোমার ভিতরের নিঃশব্দ প্রবাহ নিয়ে।


তুমি প্রস্তুত তো, আজ রাতে “নির্বাক হওয়ার” জন্য?

Previous Post Next Post