মিরর গেজিং


"মিরর গেজিং" বা আয়নার দিকে দীর্ঘক্ষণ একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকার বিষয়টি একটি মনস্তাত্ত্বিক ও আধ্যাত্মিক অনুশীলন হিসেবে পরিচিত। এই অভ্যাসের মূল লক্ষ্য হলো নিজের চোখের গভীরে একটানা দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখা।


মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, এই প্রক্রিয়াটি পারসেপচুয়াল ডিস্টরশন বা দৃষ্টিক্ষেত্রে বিভ্রম তৈরি করতে পারে, যেখানে নিজের মুখাবয়ব পরিবর্তিত বা অপরিচিত লাগতে পারে। একে অনেক সময় হ্যালুসিনেশনের একটি রূপ হিসেবেও ব্যাখ্যা করা হয়।


অন্যদিকে, কিছু আধ্যাত্মিক বিশ্বাস অনুযায়ী, এই অনুশীলন চেতনার গভীর স্তরে পৌঁছাতে এবং আত্ম-উপলব্ধি বা জাগরণে সহায়তা করতে পারে। অনুসারীরা দাবি করেন, এর মাধ্যমে ব্যক্তি তার প্রচলিত আত্ম-পরিচয় (যেমন - নাম, পেশা, ব্যক্তিত্ব) থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এক গভীরতর সত্তার অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারে।


এই অভিজ্ঞতার বিভিন্ন পর্যায়:

১. প্রাথমিক পর্যায়: মনোযোগ ধরে রাখতে অসুবিধা এবং মানসিক অস্থিরতা।


২. মধ্যবর্তী পর্যায়: মুখের আকৃতিতে পরিবর্তন অনুভব করা, বিভিন্ন পরিচিত বা অপরিচিত মুখ দেখতে পাওয়া, এমনকি অমানবিক আকৃতিরও আভাস পাওয়া। আত্মবোধ বা 'আমি'-ত্বের অনুভূতি শিথিল হতে শুরু করে।


৩. গভীর পর্যায়: চিন্তার বিলোপ এবং গভীর নীরবতা অনুভব করা। তীব্র আবেগীয় প্রতিক্রিয়া, যেমন - কান্না আসা (যা দুঃখের নয়, বরং এক ধরনের মুক্তির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হয়)। নিজের লুকানো দুর্বলতা বা সত্তার মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা।


৪. চূড়ান্ত পর্যায়: বৃহত্তর কিছুর সাথে একীভূত হওয়ার বা নিজের শারীরিক সত্তা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এক পর্যবেক্ষক বা 'দ্রষ্টা' সত্তার (চেতনা বা আত্মা) অভিজ্ঞতা লাভ করা। এই পর্যায়ে ব্যক্তি নিজেকে শরীর, নাম বা জাগতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে এক শাশ্বত ও আকারহীন চেতনা হিসেবে অনুভব করতে পারে।


এটা নিয়ে লিখতে মন চাইলো তাই লিখলাম। কিন্তু নিজে এই এক্সপেরিমেন্ট টা করার ইচ্ছা নাই। অনেক ক্রিপি লাগে।

Previous Post Next Post