আমরা খুব গভীরভাবে একা হয়ে যাই।
চারপাশের মানুষ থাকে, আলো থাকে, শব্দ থাকে-
তবু মনে হয়, কেউ নেই, কিছু নেই।
এই অভ্যন্তরীণ শূন্যতা আমাদের এক জায়গায় নিয়ে যায়-
যেখানে আমরা প্রশ্ন করি,
“আল্লাহ, আপনি আছেন তো?”
এই প্রশ্নটাই আমাদের ভেতরের একটা পর্দা সরায়।
আমরা খতিয়ে দেখি,
আমাদের আর সৃষ্টিকর্তার মাঝে এখনো কোনো সংযোগ আছে কি না।
তাঁর কথা কি এখনো হৃদয়ে কাঁপন তোলে?
তাঁর ডাকে কি এখনো আমরা নরম হই?
তাঁকে হারিয়ে ফেলেছি কি?
নাকি তিনি আছেন, আমরা শুধু মুখ ফিরিয়ে আছি?
বিষণ্নতা তখন আর কেবল মন খারাপের অনুভব থাকে না।
তখন তা হয়ে যায় এক অনুসন্ধান-
যেখানে আমরা উপলব্ধি করি,
এই পৃথিবীর কোন কিছুই
চূড়ান্ত শান্তি দিতে পারে না,
যতক্ষণ না আমরা তাঁর সঙ্গে সংযুক্ত হই।
হৃদয় কেন শান্ত হয় না?
কারণ সে এমন এক ভালোবাসার খোঁজে আছে,
যা শর্তহীন, অটুট, এবং অনন্ত।
আর সেই ভালোবাসা তো কেবল তাঁর কাছেই।
যদি সেই সম্পর্ক ভেঙে যায়,
তবে হৃদয়ের মধ্যে স্থায়ী অস্থিরতা জন্ম নেয়।
বাহির যত সুন্দরই হোক,
ভিতরের এই ঝড় থামে না।
তাই বিষণ্নতার সময় আমাদের মনে পড়ে,
“আমার প্রভুর সাথে আমার সম্পর্ক কেমন?”
এই এক প্রশ্নই কখনো কখনো আমাদের বাঁচিয়ে ফেলে।
কারণ তিনি যদি এখনো আমাদের মনে পড়েন,
তাহলে সব হারিয়ে যায়নি।
তাহলে এখনো সম্ভাবনা আছে-
তাঁর দিকে ফিরে যাওয়ার,
আর নতুন করে ভালোবাসার এক আশ্রয় খোঁজার।
আর সেই আশ্রয়…
তাই-ই তো প্রকৃত প্রশান্তির নাম।
